কোহিনূর হীরাটি বিশ্বের বড় হীরাগুলোর মধ্যে অন্যতম ।
অনেক দেশ ঘুরে শেষপর্যন্ত বর্তমানে হীরাটি বিট্রিশ রাজ পরিবারের
কাছে রয়েছে । ১৯৯৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি
উদযাপনের সময় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ভারত সফরে আসলে একই দাবি পুনরায় উত্থাপন করা
হয়। বর্তমানে এই বহুমূল্যবান হীরাটি উপনিবেশিক শোষণের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে
এই হীরাটি নিয়ে কেবল যে ভারতেরই মাথাব্যাথা তা কিন্তু নয়। বহুদিন ধরে পাকিস্তানও হীরাটি
নিজেদের বলে দাবি করছে ।
সম্প্রতি লাহোরে(পাকিস্তান) একটি নতুন রুল জারি করা
হয়েছে। পাকিস্তান, যুক্তরাজ্যের এবং ভারত ত্রিমূখীদাবির
জন্য মূলত এই রুল জারি। সোমবার লাহোরের এক আদালতে এই ব্যাপারে একটি পিটিশন দাখিল করে
। এর পূর্বে ভারতও একই দাবি করে হাইকোর্টে একটি রুল জারি করে। ভারতের দাবিছিল কোহিনূর
হীরাটি বিট্রিশ সরকার তাদের কাছ থেকে জোর-যবস্তি
করে নিয়ে যায়। ভারতের আদালতে আরো বলা হয়, ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
দখল করে পঞ্জাব । মূলত সেই সময় হিরাটি দেশ বদল হয়ে যায়।
কিন্তু পাকিস্তানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উকিল জাবেদ
ইকবাল জাফরি বলেন, কোহিনূর হল পাকিস্তানের সম্পদ। ১৯৪৭
সালে যা পাকিস্তান থেকে হাতবদল হয়ে ভারতে যায় এবং সেখান থেকে পরে যায় বিট্রিশ
রাজপরিবারে। বর্তমানে এই রত্নটি বিশ্বের সবচেয় বৃহৎ এবং দামি হীরার একটি। প্রতিদিন
টাওয়ার অব লন্ডনে এর নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে। রাজ্যভিষেকের সময় প্রথমবারের মতো এই
কোহিনূর দিয়ে তৈরি মুকুটটি পরেছিলেন ব্রিটেনের রানী। ২০০২ সালে ব্রিটেনের রানীর
মৃত্যুর পর তার প্রতি সম্মান জানিয়ে হীরাটি তার কফিনের উপর রাখা হয়েছিল।
লাহোরের উচ্চ আদালত গত ডিসেম্বরে কোহিনূরের ওপর জারি
করা পিটিশন বাতিল করে দেয়। কিন্তু পরে বিচারক জাফরি এই মামলাটি গ্রহন করে এবং নতুন
করে এর শুনানি শুরু করবে বলে জানান। জাফরি জানান, তাদের এই
মামলার ব্যাপারে ইসলামাবাদে নিযুক্ত বিট্রিশ হাই কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে।
কিন্তু মামলাটির মূল লক্ষ্য মূলত বিট্রিশ সরকারের কাছ থেকে জোরপূর্বক হীরাটি
ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

0 comments:
Post a Comment